Tuesday, August 31, 2021

শেওড়াফুলি থেকে পায়ে পায়ে তারকেশ্বর by প্রিয়ব্রত চক্রবর্তী

 

শেওড়াফুলি থেকে পায়ে পায়ে তারকেশ্বর 
প্রিয়ব্রত চক্রবর্তী 


অনেকদিন ধরে মনে বড়ই সাধ জেগেছে একটু পুণ্যি করব। মনে বড়ই সাধ! সেই সাধ মেটাতে আমি, আমার দাদার বন্ধু কার্তিকদা আর আমার সাগরেদ বিটল বার হয়ে গেলাম। পরনে আমাদের একটা হাফপ‍্যান্ট, হাফহাতা গেঞ্জি আর গামছা। ও হ‍্যাঁ মনে পড়েছে সঙ্গে আমার ঘুমসিতে বাঁধা পোটলাতে কিছু টাকা। সবাই যে যার মতো করে খরচাদি নিয়েছিল। তবে কে কত নিয়েছে সেটা জানার প্রয়োজন ঘটেনি আমার। কেননা আমি ওদের সবার মধ্যে ছোটই বটে! যাক এই সাইকেল নিয়ে স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। স্টেশনেতে পৌঁছে কার্তিকদার কথা মতো একই গ‍্যারেজে গাড়ি রাখলাম। গ‍্যারেজে গাড়ি রেখে স্টেশনে পৌঁছতেই কার্তিকদা হেঁকে সবাইকে দাঁড় করিয়ে নিজেই বালিগঞ্জ পর্যন্ত টিকিট কেটে নিল। যথা সময়ই ট্রেন এসে হাজির। আমরা সবাই একসঙ্গে তিনজনই ট্রেনেতে উঠে পড়লাম। উঠেই জায়গা পেতে তিনজনই একসঙ্গে বসেও পড়লাম। একের পর এক স্টেশন আসতে আসতে ট্রেনের বগিতে মোটামুটি আর বসার জায়গা রইল না। তবুও সেটা বেলা বারোটার ট্রেন। উঠে সবাই একদৃষ্টে আমাদের তিনজনের দিকে ড‍্যাম ড‍্যাম করে তাকিয়ে রইল। যেন আমরা সঙ্ সেজে যাচ্ছি। কয়েকজন বৃদ্ধা ধেয়ে এসে আমাদের আশপাশে গিয়ে বসে পড়ল। সবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসতে শুরু করেছি। এই প্রথম আমি পুণ্যি করতে চলেছি তাও এইরকম সঙ্ সেজে। তাই আমি এতটা লজ্জা পেয়েছি যে মাথা তুলতে পারছি না। কার্তিকদা ব‍্যাপারটা বুঝতে পেরে আমাকে হাস‍্যচ্ছলে বলে উঠল- এই ভাই তুই লজ্জা পাচ্ছি কেন? 

আমি মাথা হেঁট করে বললাম- হুম, লজ্জা পাচ্ছি কেন? দেখতে পারছ না কেমন করে সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে! খালি গা, হাঁটু পর্যন্ত এলো আমারও কেমন মনে হচ্ছে যেন সঙ্ সেজে যাচ্ছি। 

কার্তিকদা ঠোঁটের একটু হাসি হেসেই যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলল- কেন আপনারা সবাই আমার এই ভাইটির দিকে তাকিয়ে আছেন বলুন তো! একটু আধটু অন্যদিকে তাকান না। 

ট্রেনের যাত্রীরা হোঃ হোঃ করে হেসে সবাই যেন একসঙ্গে বলে উঠল- এ ভাই সবাই কনে বউয়ের দিকে তাকিয়ে আছো কেন? চলো একটু অন‍্যদিকে তাকাই! আহা রে! 

লাজে রাঙা হল কনে বৌ গো/মালাবদল হবে এরাতে/আর মালাবদল হবে এরাতে/ও তোরা উলু দে/রাঙা বর এল যে।

আর আমার সামনে বসা বেহায়া বৃদ্ধাগুলো উলুধ্বনি দিতে শুরু করে দিল। বেশ দশ থেকে পনেরো মিনিট ট্রেনের মধ্যে থাকা সমস্ত ছেলেমেয়ে থেকে শুরু করে বৃদ্ধ ও বৃদ্ধারা উলুধ্বনি দিল। আমি আরও লাজে মাথা হেঁট করে ফেললাম। আর সবাই হোঃ হোঃ হোঃ করে হেসে উঠল। আর বৃদ্ধারা আমার মাথাটা হাত দিয়ে তোলার চেষ্টা করল। আমি আরও মাথা হেঁট করলাম। ইতিমধ্যে বালিগঞ্জ স্টেশনেতে ট্রেন দাঁড়াল আর আমরা তিনজনই হুড়মুড় করে নেমে পড়লাম। আর বগি থেকে যুবতী মেয়েগুলো বলতে লাগল- ওরে আমার বর পালিয়ে গেল রে ধর, ধর, ধর! 

আমরা তিনজনই স্টেশন থেকে তাড়াতাড়ি নীচে নেমে গেলাম। ট্রেন ছেড়ে দিল। ছাড়তেই সামনের বগি থেকে হাসির রোল পড়া শোনা গেল। ট্রেন চলে যাবার পর আমরা লাইন ধরে বেশ কিছুদূর গিয়ে একটা শিব মন্দিরে প্রণাম করে হেঁটে হেঁটে বালিগঞ্জের কার্তিকদাদার বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে উঠলাম। এই সারা রাস্তায় আমি নিশ্চুপ রইলাম। শুধু আমি কেন বাকি দু'জনেরও মুখে রা ছিল না। কার্তিকদাদা বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে ট্রেনের মধ্যে ঘটা সমস্ত ঘটনা বলে বেশ হাসিঠাট্টা করছিল আমাকে নিয়ে। কিন্তু বাড়িতে একজন বিধবা বুড়িমা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে ব‍্যাপারটা বেশ অনুধাবন করে নিল হাসিঠাট্টা করার সময়। সেই বুড়ি কার্তিকদা সহ বাড়ির অন্য লোকেদের বেশ ধমক দিয়ে বলল- কেন তোরা ওর নিয়ে তামাশা করছিস ও প্রথম এই বেশভূষা পরেছে তাই ওমনটা হচ্ছে। বাবা পৈতাধারী বামনঠাকুর এখানে এসো তো! আমার কাছে এসো! 

আর বৌমাকে ইঙ্গিত করে বলল- এদের নিরামিষ খাওয়া দাওয়া দিয়ে দাও! ঠাকুরমশাই আমার কাছাকাছি বসবে অনেক দূর পর্যন্ত ওদের হাঁটতে হবে। সেই শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর বেশ দূর! 

কার্তিকদা মাথা নাড়িয়ে বলল- না, না! 

বুড়িমা ধমক দিয়ে বলল- তুই দাঁড়া বামনঠাকুর এসেছে আমাকে একটু পুণ্যি করতে দে! তুই একা থাকলে তোর কথায় হয়তো রাজি হয়ে যেতাম! কিন্তু এখন! নে বসে পড় দেখি। 

কার্তিকদা বলল- হ‍্যাঁ, হ‍্যাঁ তা বটে! আপনি যা! 

দেখলাম সব যেন আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল কেবল ভাতের থালা ধরে দেওয়ার অপেক্ষা। আমাকে কাছাকাছি বসিয়ে খাওয়াতে খাওয়াতে বুড়িমা বলল- ভোলেবাবা হচ্ছেন সাক্ষাৎ পরমেশ্বর! স্বয়ং কৃষ্ণ যেমন উনি তেমন! ওদের কাছে যেতে গেলে লজ্জা, ঘৃণা আর ভয় কোনোটাই থাকতে নেই। কে দেখে হাসল, আর কে হাসল না তাতে কিছুই যায় আসে না। তাছাড়া তুমি তো ছেলে ঠাকুর, তাও হাফপ‍্যান্ট পরে আছো! তোমার লজ্জা নিবারণ তো হয়েই আছে। তুমি কেন এমন করছ? তোমাকে নিয়ে সবাই কেমন হাসিঠাট্টা করছে। এরকম করো না ঠাকুর! এরকম একদম করো না। এই বুড়ির কথা একটু শোনো, দেখবে তোমার দেখে আর কেউ হাসিঠাট্টা করবে না। আর যদি কেউ করেও তুমি কিন্তু মনে মনে ভোলানাথের নাম করবে দেখবে সব কেমনে কিছুই মনে হবে না। 

ঐ বুড়ির কথা শুনে সত্যিই কেমনে যেন মনের জোর ফিরে পেলাম। পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে গেলাম। কার্তিকদার বন্ধুর বৌ আমাকে দেখে মিচকি হাসলেও আমি মনে মনে ভোলানাথের নাম করতেই কেমনে যেন স্বাভাবিক হয়ে গেলাম। বুড়িমা সঙ্গে সঙ্গেই বলে উঠল- এই রকম থাকবে ঠাকুর! 

ব‍্যস্ তিনজনে হাতমুখ ধুয়ে বার হয়ে গেলাম। কিছুদূর গিয়ে বাসে উঠলাম সোজা হাওড়া স্টেশন। স্টেশনেতে পৌঁছে লাইন দিয়ে শেওড়াফুলি যাওয়ার টিকিট কেটে নিয়ে ট্রেন ধরার উদ্দেশ্যে ৯ নম্বর প্লাটফর্মে গেলাম। সেখান থেকে ট্রেন ধরতেই দেখলাম আমাদের মতো অনেকেই শেওড়াফুলি যাচ্ছে। তারা একসঙ্গে মিলে বলছে- ভোলেবাবা পার করে গা, বম বম তারক বম, ভোলে বম তারক বম! 

আবার পরের স্টেশন থেকে লোক 'পাগলা বাবা পার করে গা, ত্রিশূলধারী শক্তি জাগা!' বলতে বলতে ট্রেনেতে উঠছে। 

যতক্ষণ না শেওড়াফুলি স্টেশন এল, ততক্ষণ পর্যন্ত ট্রেনের বগির মধ্যে একই আওয়াজ। সারা ট্রেন যেন গমগম করছে। শেওড়াফুলি স্টেশনেতে নামলাম। সেখান থেকে বেশ কিছুদূর হেঁটে গঙ্গার ঘাটে গিয়ে পৌঁছুলাম। তিনজনই গঙ্গা থেকে স্নান করে বাঁক আর ঘট কিনতে যাব বলে ঘাটের ধারে থাকা ব‍্যাপারিদের কাছে গিয়েছি। আর ঠিক সেই সময়ই ব‍্যাপারিদের কাছেই দেখতে পাই আমাদেরই এলাকার চেনাজানা পঞ্চা মাইতি, তার বৌ, তার ছেলে আর ছেলের ব‍ৌ। আমাদের তিনজনকে দেখতে পেয়ে তারা সবাই মিলে বলে উঠল- আরে তোমরাও! 

কার্তিকদা বলল- তা তোমরা কতক্ষণ! 

পঞ্চা বলল- আরে একই ট্রেনে এসেছি তো! 

কার্তিকদা বলল- বাঃ তবুও দেখতে পেলাম না। যাক তোমাদের সব কেনা হয়ে গিয়েছে। 

পঞ্চা বলল- হ‍্যাঁ এই কিনলাম। 

কার্তিকদা বলল- তাহলে আমরা কিনে নি! 

কেনা হয়ে যাওয়ার পর কার্তিকদা বলল- ভাই আমাদেরগুলো পুজো করে দে! 

পঞ্চা মাইতি বলল- তাহলে আমাদেরও পুজো করে দাও! 

আমি এপার ওপার তাকিয়ে সহাস‍্যে বললাম- আরে আমি পুজো তো জানি না। 

কার্তিকদা মৃদু হাস‍্যে বলল- আহ্নিক জানিস তো, তাই পড়ে ফুল দিয়ে দে! যাদের যাদের করবে কিন্তু তাদের দক্ষিণাটি দিতে হবে। 

আমি সলজ্জে বলে উঠলাম-ধেৎ, না না কারোর দক্ষিণা দিতে হবে না। 

কার্তিকদা বলল- উঁহু, তা বললে হবে না। নে নে পুজো করে দে ভাই! 

আমি আহ্নিক মন্ত্র মনে মনে বলে ফুল-জল দিয়ে পুজো করে দিলাম। ব‍্যস্ তারপর দুটি ঘট কিনে ঘটে করে গঙ্গার জল নিয়ে বাঁক কাঁধে করে হাঁটতে শুরু করলাম আমরা সাতজন মিলে ঠিক বৈকাল পাঁচ ঘটিকায়। কিন্তু কিছুদূর গিয়েই পঞ্চারা চারজন ভ‍্যান ধরে যেতে শুরু করে দিল। পড়ে রইলাম আমরা তিনজন আর বাইরের বেশ জনাকয়েক। কার্তিকদা আমি আস্তে আস্তে হাঁটছি দেখে আমার গায়ে চপাট করে চড় কসিয়ে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠল- ভাই বল্, বিটল বল্ ভোলেবাবা পাড় করে গা/ত্রিশূলধারী শক্তি জাগা! 

আমি আর বিটল চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠলাম- ভোলেবাবা পাড় করে গা/ত্রিশূলধারী শক্তি জাগা! 

অন্যেরা সবাই একথা বলার পর বলল- যাচ্ছে কারা বাবার চেলা/আসছে কারা বাবার চেলা/যাচ্ছে দেখো বাবার চেলা/আসছে দেখো বাবার চেলা/ভোলে বম তারক বম/ ভোলে বাবা পাড় করে গা/গাঁজা বাবা পাড় করে গা/ বম বম তারক বম/বম বম তারক বম। 

বেশ আনন্দের সঙ্গে হেলতে দুলতে ওদের সঙ্গে হাঁটতে লাগলাম। এবড়োখেবড়ো রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পায়ের তলা কেটে রক্ত ঝরতে লাগল। কিন্তু আনন্দেতে সেটা মালুমই হচ্ছিল না। মালুম হল যখন আমরা ডাকাতকালী পুজো দিয়ে রুটি তরকারি নিয়ে খেতে বসলাম ঠিক তখনই পায়ের তলায় দেখলাম অসংখ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাটা। কার্তিকদা আর বিটল হেঁকে উঠল- দেখো পায়ের দিকে তাকাচ্ছে। এই রকম একটু-আধটু হবে। 

পায়ের দিকে তাকিয়ে আমার চোখ বেয়ে টপ টপ করে জল পড়তে লাগল। 

কার্তিকদা হেঁকে বলল- এ ভাই খেয়ে নে! আমি কাচকাগজ বেঁধে দেবো ক্ষণ, বাবার নামে কিছু হবে না। এরপরে আর বেশি বাকি নেই। নে, খেয়ে নে, কাঁদিস নে ভাই, বাবা আছে না! 

আমি মনে মনে ভোলেবাবার নাম করে কিছু খেয়ে নিলাম। খাওয়ার পর কার্তিকদা আমার পায়ে ভালো করে প্লাস্টিক বেঁধে হেঁটে দেখতে বলল। আমি হেঁটে দেখলাম অনেকটা কম ব‍্যথা লাগছে তবে হাঁটা যাচ্ছে। আশ্চর্যজনক ঘটনা এটাই যে কার্তিকদা আর বিটলের আমার মতন পা কেটে গেলেও কিচ্ছুটি মনে করছে না। মনে হচ্ছে যেন এব‍্যাপারে তাদের কোনো ভ্রূক্ষেপই নেই। কি অদ্ভুত ওদের প্রাণশক্তি। ওরা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বড় বড় পিতলের কলসি ভরা গঙ্গাজল বাঁকে বেঁধে কাঁধে করে হাঁটতে শুরু করে দিল। আর আমার ছোট্ট ছোট্ট দুটি ঘট ভরা গঙ্গাজল বাঁকেতে বেঁধে হাঁটতে শুরু করা। তবে একটু খুঁড়িয়ে হলেও আমার মতো খুঁড়িয়ে নয়। ওদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে বেশ দমে যেতে লাগলাম। ওরা সেই প্রাণবন্ত স্বরে 'ভোলেবাবা পাড় করে গা/ত্রিশূলধারী শক্তি জাগা' বলে বলে যেতে লাগল। আর সঙ্গে আমাকেও বলে বলে যেতে বলল। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বলতে বলতে বেশ ঘণ্টাখানেক পরে বুড়ো শিবের মন্দিরে এসে পৌঁছুলাম। সেখানে কিছু জল ঢেলে আবার যেতে শুরু করলাম। কিন্তু যেতে যেতে দেখলাম আমার পা আর নড়তে চাইছে না। কার্তিকদা আর বিটল কিন্তু বহাল তবিয়তে চলেছে এই গহন অন্ধকারেও তারা প্রাণবন্ত স্বরে সেই একই তালে ভোলেবাবা ধ্বনি তুলে অবলীলাক্রমে হেঁটে চলেছে। কার্তিকদা আমাকে পিছিয়ে যেতে দেখে খুব জোরে বলে উঠেছে- ভাই আমাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয়! নতুবা পিছিয়ে গেলে তোর কাছে কেউ নেই আর এখান থেকে গাড়িও পাবি না। ভেবে দ‍্যাখ্, অচেনা জায়গায় কী করবি তুই একা একা! ও হ‍্যাঁ বলতে ভুলে গিয়েছি, এখানে খুব ছিনতাই-ফিনতাই হয় আবার মেরে দিলে কেউ খুঁজে পাবে না। এদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার! বসে বসে ভাব আমরা যাই! চল্ বিটল চল্ চল্! 

আমি ভুলে গেলাম আমার পায়ে কাটাফাটা কিছু আছে। হনহন করে ওদের তালে তাল মিলিয়ে ভোলেবাবা বলে বলে যেতে লাগলাম। যেতে যেতে গিয়ে পৌঁছুলাম লোকনাথ মন্দিরে। সেখানে লোকনাথ বাবার মাথায় জল ঢালার জন্য দেখলাম বেশ লাইন। সেই লাইনে দাঁড়িয়ে গেলাম বাঁকে করে জল নিয়ে। যথা সময়ে জল ঢেলে আবার তারকনাথের উদ্দেশ্যে হাঁটতে শুরু করে দিলাম। আমার চোখ বেয়ে টপ টপ করে জল পড়ছে তবুও বাবার নাম করে ওদের সঙ্গ ছাড়লাম না। কেননা আমি যে একা পড়ে যাব। ঠিক ভোরের আরতির শুরু হবো হবো সময়ই আমরা তিনজনই গিয়ে পৌঁছুলাম তারকেশ্বরে তারকনাথ মন্দিরে। সেখানেও দেখলাম লাইন তবে কম। কেননা এই পথটা বিশেষ কয়েকজন সাধুসন্ত ছাড়া অন‍্য কেউ জানে না। তাই ঠিক আরতির শুরুর সময়ই ঢুকে পড়লাম মন্দিরের ভিতরে। বাবার আরতি দেখে পরে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে আমরা তিনজনই বাবার মাথায় জল ঢাললাম। এই জল ঢালার পর আমার মনে হল আমি যেন বিশ্বজয় করলাম। আর বাবা আমার আশীর্বাদ করলেন। তারপর স্নান করে বাবার মাথা থেকে নালা বেয়ে আসা জল ঘটে ভরে সেই দুটি ঘট বাঁকে বেঁধে নিয়ে কাঁধে করে একটা গাছের তলায় পুজো দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে তারকেশ্বর স্টেশনেতে প‍ৌঁছুলাম। সেখানে গিয়ে কার্তিকদা নিজেই সবার জন্য টিকিট কেটে আমাদের সঙ্গে নিয়ে হাওড়াগামী ট্রেনে গিয়ে বসাল। তারপর একই পন্থায় আমাদের গন্তব্য স্টেশনে এসে পৌঁছানো। তবে এবার কার্তিকদার বন্ধুর বাড়িতে আর নয়। যাক আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে আর সাইকেল নিলাম না। একেবারে রিকশা করে বাড়িতে পৌঁছুলাম। সেই দুর্গম রাস্তার কথা চিন্তা করলে আজও চোখ বেয়ে জল আসে।



Ph.-6295035632


No comments: